হাঁটুপানির জলদস্যু
দাঁতাল বাঁশখোর একদিন দুপুরে পাটশাক দিয়ে ভাত খেয়ে তার প্রকাণ্ড ময়লা দু'টি দাঁত খোঁচাচ্ছিলো একটি ইমপোর্ট করা খিলাল দিয়ে, এমন সময় ফোনটা ঝনঝন করে বেজে উঠলো।
দাঁতাল ফোনের বোতামে টিবি দিয়ে বললো, "হেলু হেলু! দাঁতাল কইতেছি!"
ওপাশে বন ও পশুসম্পদ মন্ত্রী উদ্বিগ্ন গলায় বললেন, "কে, বাঁশখোর ভাইয়া?"
দাঁতাল দাঁত বের করে বললো, "হ। আপনে ক্যাঠা?"
মন্ত্রী সালাম দিলেন, তারপর নিজের পরিচয় দিলেন। তারপর বললেন, "আপনি খবরের কাগজ পড়েন ভাইয়া?"
দাঁতাল উদাস গলায় বললো, "নাহ। আমি খবরটবর ভালু পাই না। খবরের ধারণাটাই ভুল। কতগুলি লোক মিল্লা একটা ঘটনারে নিজেগো মনমতো, নিজেগো মননমতো মাইনষের চোক্ষের সামনে তুইলা ধরন ঘটাইতে চায়, সেইটারে মাইনষের মনে বীজ হিসাবে বপন করন হওয়াইতে চায়, মাইনষের মনে যে বিচ্ছিন্ন ভাবনা, যে পরস্পর সংলগ্নতাহীন ধারণাগুলি আছে, সেগুলিরে মোচন করাইয়া নিজেগো ফ্যাসিবাদী সাম্রাজ্যবাদী চিন্তাগুলিরে রোপন করন ঘটন হওয়াইতে চাওন করে। ফরহাদ মগবাজার ভাই কইছেন, খবর বইলা আসলে কিছু নাই। আছে কেবল খাবরিকতা।"
মন্ত্রী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলেন, "কিন্তু ভাইয়া, আপনি কি জানেন, আমাদের চিড়িয়াখানার একমাত্র গণ্ডারটা যে ইন্তেকাল করেছে?"
বাঁশখোর মনে মনে একটু খুশিই হয়। যাক, কম্পিটিশন কমলো। সে বলে, "গণ্ডারের মৃত্যুর খবর লৈয়া বৈসা থাকলে তো আমার চলবে না। আমার আরো জরুরি কাজ কাম আছে। আপনি কী কৈতে চান এই বেলা কৈয়া জল্দি জল্দি ফুনখানা রাখন করন ঘটান না কেন?"
মন্ত্রী বলেন, "দ্যাখেন, গণ্ডার আমাদের চিড়িয়াখানার গর্ব।"
বাঁশখোর শুনে যায়।
মন্ত্রী বলেন, "একমাত্র গণ্ডারটা মারা যাবার পর চিড়িয়াখানা এখন এতিম। দর্শক কমে গেছে।"
বাঁশখোর বলে, "আরেকটা আনায়া লন। তাহইলেই তো হয়া যায়। নেপালে এখন মাওবাদী সরকার। উনাদের কাছে গিয়া শুধু আমার নামটা কৈবেন। বলবেন জাহাঙ্গীরজঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাঁতাল বাঁশখোর আপনাকে পাঠাইছে। গণ্ডার পাইয়া যাবেন এক প্লাটুন।"
মন্ত্রী বলেন, "না ভাইয়া। ভুল করছেন। গণ্ডারের জন্য কেনিয়া সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। উনাদের গণ্ডারগুলি বিশ্বসেরা গণ্ডার।"
বাঁশখোর একটু ক্ষেপে ওঠে। "হৈছে হৈছে, গণ্ডারের খোসামুদি আর কত করবেন? কী কৈতে চান তাহইলে? গণ্ডার তো পাইয়াই গেছেন!"
মন্ত্রী বিনীত সুরে বলেন, "ভাইয়া, মাত্র তো অর্ডার দেয়া হয়েছে। উনারা গণ্ডার ধরবেন, প্যাক করবেন, জাহাজে করে পাঠাবেন, সব মিলিয়ে মাস তিনেক লাগবে আসতে আসতে। আপনি এই সময়টা আমাদের একটু উপকার করেন।"
বাঁশখোর বলে, "কীরম উপকার?"
মন্ত্রী বলেন, "এই একটু গণ্ডারের খাঁচায় মাঝে মাঝে গিয়ে একটু বসবেন।"
বাঁশখোর রাজি হয়ে যায়।
এরপর চিড়িয়াখানায় অবসরে গিয়ে গণ্ডারের খাঁচায় বসতে শুরু করে বাঁশখোর। সন্ধ্যার দিকে খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে আজিজের আড্ডায় যায়। আবার দুপুরের দিকে খাঁচায় একটু বসে। জ্যাক লাকা, ফুকো, দেরিদার কিছু বই সাথে নিয়ে যায়। পাতা উল্টায়। বিড়ি খায়। এদিকে লোকজনের ভিড় ভেঙে পড়ে গণ্ডারের খাঁচার সামনে। কেউ কেউ ফুলকপি কিনে ছুঁড়ে দেয় খাঁচার ভেতরে। চিড়িয়াখানার স্টাফরা রা রা করে তেড়ে আসে, কারণ পশুকে খাবার খাওয়ানো নিষেধ। বাঁশখোর গলা খাঁকারি দিয়ে বলে, এক্টু ডাইলপুরি দেন না কেউ? কাচা ফুলকপি ক্যাম্নে খামু?
চিড়িয়াখানা মোটামুটি সরগরম হবার পর একদিন গণ্ডারের রক্ষণাবেক্ষণকারী খাবার নিয়ে আসে ঝুড়িতে করে। বাঁশখোর সরেস দেখে একটা বাঁশ নিয়ে চিবিয়ে খায়, আর বলে, "গণ্ডারটার হৈসিলো কী? মরলো ক্যান?"
রক্ষণাবেক্ষণকারী অশ্রুসজল চোখে বলে, "স্যার, দর্শকগুলির দোষ স্যার! সারাটাক্ষণ ত্যক্ত করতো বেচারা জীবটারে।"
বাঁশখোর বলে, "ক্যাম্নে ত্যক্ত করতো?"
রক্ষণাবেক্ষণকারী বলে, "স্যার, আজেবাজে কথা বলতো খালি?"
বাঁশখোর বলে, "কী কথা?"
রক্ষণাবেক্ষণকারী মাথা নিচু করে বলে, "বলতো ... বলতো ... বলতো ঐ ব্যাটা গণ্ডার, তোর গায়ে নাকি দাঁতাল বাঁশখোরের চামড়া?"
বাঁশখোর বলে, "তারপর?"
রক্ষণাবেক্ষণকারী বলে, "তারপর আর কী? গণ্ডারটা লজ্জায় মইরা গেলো!"
হাঁটুপানির জলদস্যু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হাঁটুপানির জলদস্যু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৯
দুখী গণ্ডারনামা ০১
হাঁটুপানির জলদস্যু
১.
নোয়া খবর পেলেন, মহাপ্লাবন আসছে সামনে। প্রবল বন্যায় ভেসে ডুবে ছারখার হবে সব কিছু। এক পেল্লায় নৌকা বানাতে হবে তাকে। সেই নৌকায় সকল জীবজন্তু পশুপাখি জোড়ায় জোড়ায় নিয়ে তাকে ভেসে থাকতে হবে অনির্দিষ্টকাল। বাকি পাপীর দল ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।
নোয়া নৌকা বানানোর কাজে হাত দিলেন। সবাই খুব খ্যাপাতে লাগলো তাকে। কিন্তু নোয়া পাত্তা দিলেন না আবালগুলিকে।
নৌকা বানানোর কাজ শেষ হবার পর নোয়া সব পশুপাখি জোড়ায় জোড়ায় ভর্তি করার কাজ শুরু করলেন। একজোড়া গরু, একজোড়া ছাগল, একজোড়া ভেড়া ...।
দিন যায়। নানা পশুপাখি লক্ষ্মী ছেলেমেয়ের মতো গুটগুট করে হেঁটে এসে নোয়ার নায়ে ওঠে। নোয়া আকাশের দিকে তাকান। মেঘলা আকাশ। গুড়গুড় শব্দ হচ্ছে। সামনে তুমুল বৃষ্টি আর বান আছে। বুড়িগঙ্গা ফুঁসে উঠে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সমস্ত পৃথিবী।
নোয়া নৌকার নোঙর তুলে নেয়ার হুকুম দিলেন বড় ছেলেকে। সিঁড়ি বেয়ে নৌকায় ওঠার সময় দেখলেন, অদ্ভুত এক লোক দাঁড়িয়ে সিঁড়ির গোড়ায়।
"কে তুমি?" নোয়া শুধান।
অদ্ভুত দেখতে লোকটা দুইটা প্রকাণ্ড ময়লা হলুদ দাঁত বার করে হাসে। বলে, "আমি দাঁতাল বাঁশখোর। কবি ও চলচ্চিত্রনির্মাতা। ধর্মে উত্তরাধুনিক।"
নোয়া কিছু বলার আগেই ভীষণ বান ধেয়ে আসে। তিনি আর দাঁতাল দুজনেই পড়িমড়ি করে নৌকায় ওঠেন।
২.
দিন যায়।
চারদিকে পানি থই থই করছে। ডাঙার চিহ্নমাত্র নেই। নৌকার ভেতরে নিরিবিলিতে পাশাপাশি বসে বাঘ আর মোষ, সিংহ আর হরিণ, বেড়াল আর ইঁদুর।
নোয়ার ছেলে এসে বললো, "আব্বু আব্বু, ঐ নতুন লোকটা না প্রত্যেক রাতেই কী যেন করে! জীবজন্তুগুলি শুধু ছটফট করতে থাকে!"
নোয়ার মুখটা গম্ভীর হয়ে যায়।
তিনি গিয়ে দাঁতাল বাঁশখোরকে বলেন, "তারপর? কেমন কাটছে সবকিছু?"
দাঁতাল তার হলুদ দুই দাঁত বার করে হাসে। বলে, "প্রশ্নটা আমারে ভাবন করাইলো! আসলেই কেমন কাটে কোনো কিছু? আদৌ কি কাটে? কেমনই বা কাটা উচিত?"
নোয়া থতমত খেয়ে চলে আসেন।
একদিন রাত্তিরে হঠাৎ ঝুপ্পুস করে আওয়াজ হয়। নোয়া বিছানা ছেড়ে উঠে বেরিয়ে নৌকার খোলে ঢোকেন। ঢুকে দেখেন, দাঁতাল বাঁশখোরের পাশের জায়গাটা খালি। ওখানে কুমড়োপটাশ আর কুমড়োপটাশিনী বসে ছিলো ঘন্টাদুয়েক আগেও।
তিনি কঠিন স্বরে প্রশ্ন করেন, "দাঁতাল, কুমড়োপটাশ কোথায়?"
দাঁতাল একটা কাঠি দিয়ে তার ময়লা দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বলে, "কী জানি!"
নোয়া বলেন, "জানো না মানে? তোমার পাশেই তো তারা ছিলো?"
দাঁতাল উদাস গলায় বলে, "ছিলো, কিন্তু এখন নাই! এমন তো হরহামেশাই হচ্ছে। ছিলো একটা রুমাল, হয়ে গেলো বেড়াল!"
এমন সময় একটা কাঠবেড়ালি উঠে এসে বললো, "মহামতি নোয়া! অনুমতি দিলে কিছু কথা বলতে চাই!"
নোয়া বললেন, "অনুমতি দিলাম!"
কাঠবেড়ালি গলা খাঁকরে বললো, "মহামতি নোয়া, এই দাঁতাল বাঁশখোর প্রতি রাতে, রাতের আঁধারে গা ঢাকা দিয়ে নিদ্রিত আমাদের উপর হামলা চালায়। সে আমাদের সবার পোঁদে আঙুল দেয়। এই কাজ করে সে কী মজা পায়, তা আমরা জানি না, কিন্তু চেয়ে দেখুন, সবাই কীভাবে তার পেছন ঢেকে ঘুমিয়েছে!"
নোয়া চেয়ে দেখেন, কথা সত্য। গরু ছাগল বাঘ ভালুক সবাই নিজের পেছন আবৃত করে রেখেছে যে যেভাবে পারে।
কাঠবেড়ালি বলে, ছোট্ট ইন্দুর থেকে শুরু করে মস্ত হাতি, কেউ রেহাই পায়নি এই উংলিবাজি থেকে! কিন্তু অভিমানী কুমড়োপটাশ আর সহ্য করতে পারেনি, সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেছে!"
নোয়া চেয়ে দেখেন, দাঁতাল তার মধ্যমা শুঁকছে আনমনে।
তিনি বজ্রকণ্ঠে বললেন, "দাঁতাল বাঁশখোর, এই অভিযোগ কি সত্য?"
দাঁতাল হাই তুলে বললো, "কীসের অভিযোগ? কে করে কার বিরুদ্ধে অভিযোগ? সবার আগে যে প্রশ্নটা জিজ্ঞাসা করতে হয় তা হচ্ছে, অভিযোগ কারে বলে?"
নোয়া আর সহ্য করতে পারেন না, বলেন, "ওহে রাসকেল! এই নৌকার একটা নিয়মকানুন আছে! সেটা মেনে চলতে হবে!"
দাঁতাল হাসে দাঁত বার করে। বলে, "নিয়ম? কীসের নিয়ম? কে নিয়ম তৈয়ার করন ঘটন হওয়াইলো? এই নিয়মানুবর্তিতার জোয়াল কে কার কান্ধে চাপা করাইতে চায়? সমাজে নিয়মের মস্তানি চালু করতে চাওন ঘটায় কারা?"
নোয়া বড় ছেলেকে ডাকেন, "বাপধন! ডিঙ্গাটা নামা!"
৩.
দাঁতাল বাঁশখোরকে একরকম ঘাড়ে ধরে ডিঙ্গায় নামিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় অথৈ সাগরে। সাথে দেয়া হয় একটা দাঁতখিলাল।
দাঁতাল চেঁচাতে থাকে, "এই ফ্যাসিবাদি আচরণের জন্য নোয়াকে জবাবদিহি করতে হবে! স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে নৌকা চালানো যায় না! আমাকে অন্যায়ভাবে নৌকা থিকা বাইর কইরা দেওয়া হৈসে! এই ফ্যাসিবাদী নোয়া নিয়মকানুন বানানোর ক্যাঠা?"
নোয়া বলেন, "খুদাপেজ!"
পশুপাখি সকলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। ছাগল সন্তর্পণে একটা ছিপি বার করে আনে পেছন থেকে।
৪.
দিন যায়, মাছ যায়, বছর যায়। দাঁতাল বাঁশখোরের ডিঙা জলে ভাসে। দাঁতাল জলের মাছ আর আকাশের পাখি ধরে ধরে খায় আর বিড়বিড় করে নোয়াকে বকে।
এইভাবে কেটে যায় হাজার বছর। একদিন দাঁতালের ডিঙা ভেড়ে এক দ্বীপে। দাঁতাল ডিঙা টেনে তোলে সৈকতে। তারপর একটা নারকেল গাছে চড়ে। কয়েকটা ডাব পেড়ে খায়। তারপর লতাপাতা দিয়ে একটা কুটির বাঁধে। এক নিরীহ বুনো ছাগলিকে ধরে আনে এক রাতে।
এভাবেই চলে তার সংসার।
একদিন দাঁতাল কচুর মুখী দিয়ে মাছ রান্না করছে, সেই ধোঁয়া দেখে দূর থেকে এক সওদাগরী জাহাজের কাপ্তান দূরবীণ লাগিয়ে দেখেন, নারকেল গাছের নিচে এক দেড়েল প্রায় উলঙ্গ লোক আগুনের সামনে বসে। তিনি জলিবোট নামিয়ে লোকটাকে উদ্ধার করতে লোক পাঠান।
নাবিকেরা দাঁতালকে নৌকোয় করে নিয়ে আসে জাহাজে।
কাপ্তান বলেন, "হে দ্বীপবন্দী! তোমাকে আমি উদ্ধার করলাম। এখন তুমি আবার ফিরে যাবে মানবসভ্যতায়। তোমার নারকেলপাড়া জীবন, তোমার ছাগলচোদা জীবন, তোমার কচুর মুখী দিয়ে গেঁড়িগুগলি রান্নার জীবনের আজ ইতি ঘটলো!"
দাঁতাল বললো, "হুমম?"
কাপ্তান বললেন, "তা তুমি কোন দেশের লোক? কেনই বা এই দ্বীপে আটকা পড়ে আছো?"
দাঁতাল বললো, "শোনেন তাইলে! ফ্যাসিবাদি নোয়া আমারে তার জাহাজ থিকা অন্যায়ভাবে বাইর কৈরা দিসে!"
দাঁতাল বলে যায়। মিনিট পেরোয়। ঘন্টা পেরোয়। তিন ঘন্টা পর কাপ্তান কপালের ঘাম মুছে এক নাবিককে বলেন, "ঐ মোখলেছ! ডিঙ্গা নামা!"
৫.
দাঁতাল বাঁশখোরকে একরকম ঘাড়ে ধরে ডিঙ্গায় নামিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় অথৈ সাগরে। সাথে দেয়া হয় একটা দাঁতখিলাল।
দাঁতাল চেঁচাতে থাকে, "এই আচরণ নোয়ার মতোই ফ্যাসিবাদি! স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে নৌকা চালানো যায় না! আমাকে অন্যায়ভাবে যেমন নোয়ার নৌকা থিকা বাইর কইরা দেওয়া হৈসে, তেমনই তোমাগো নৌকা থিকাও বাইর কইরা দেওয়া হৈসে! তোমরা ফ্যাসিবাদীরা নিয়মকানুন বানানোর ক্যাঠা?"
কাপ্তান বলেন, "খুদাপেজ!"
নাবিকরা সকলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। কাপ্তান সন্তর্পণে একটা ছিপি বার করে আনেন কান থেকে।
৬.
দিন যায়, মাছ যায়, বছর যায়। দাঁতাল বাঁশখোরের ডিঙা জলে ভাসে। দাঁতাল জলের মাছ আর আকাশের পাখি ধরে ধরে খায় আর বিড়বিড় করে নোয়াকে বকে।
এইভাবে কেটে যায় হাজার বছর। একদিন দাঁতালের ডিঙা ভেড়ে আরেক দ্বীপে। দাঁতাল ডিঙা টেনে তোলে সৈকতে। তারপর একটা নারকেল গাছে চড়ে। কয়েকটা ডাব পেড়ে খায়। তারপর লতাপাতা দিয়ে একটা কুটির বাঁধে। এক নিরীহ বুনো ছাগলিকে ধরে আনে এক রাতে।
এভাবেই চলে তার সংসার।
একদিন দাঁতাল কচুর মুখী দিয়ে মাছ রান্না করছে, সেই ধোঁয়া দেখে দূর থেকে আরেক সওদাগরী জাহাজের কাপ্তান দূরবীণ লাগিয়ে দেখেন, নারকেল গাছের নিচে এক দেড়েল প্রায় উলঙ্গ লোক আগুনের সামনে বসে। তিনি জলিবোট নামিয়ে লোকটাকে উদ্ধার করতে লোক পাঠান।
নাবিকেরা দাঁতালকে নৌকোয় করে নিয়ে আসে জাহাজে।
কাপ্তান বলেন, "হে দ্বীপবন্দী! তোমাকে আমি উদ্ধার করলাম। এখন তুমি আবার ফিরে যাবে মানবসভ্যতায়। তোমার নারকেলপাড়া জীবন, তোমার ছাগলচোদা জীবন, তোমার কচুর মুখী দিয়ে গেঁড়িগুগলি রান্নার জীবনের আজ ইতি ঘটলো!"
দাঁতাল বললো, "হুমম?"
কাপ্তান বললেন, "তা তুমি কোন দেশের লোক? কেনই বা এই দ্বীপে আটকা পড়ে আছো?"
দাঁতাল বললো, "শোনেন তাইলে শুরু থিকা! ফ্যাসিবাদি নোয়া আমারে তার জাহাজ থিকা অন্যায়ভাবে বাইর কৈরা দিসে!"
দাঁতাল বলে যায়। মিনিট পেরোয়। ঘন্টা পেরোয়। তিন ঘন্টা পর কাপ্তান কপালের ঘাম মুছে এক নাবিককে বলেন, "ঐ মোখলেছ! ডিঙ্গা নামা!"
...
এই গল্প তার পর থেকে এভাবেই চলছে।
১.
নোয়া খবর পেলেন, মহাপ্লাবন আসছে সামনে। প্রবল বন্যায় ভেসে ডুবে ছারখার হবে সব কিছু। এক পেল্লায় নৌকা বানাতে হবে তাকে। সেই নৌকায় সকল জীবজন্তু পশুপাখি জোড়ায় জোড়ায় নিয়ে তাকে ভেসে থাকতে হবে অনির্দিষ্টকাল। বাকি পাপীর দল ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।
নোয়া নৌকা বানানোর কাজে হাত দিলেন। সবাই খুব খ্যাপাতে লাগলো তাকে। কিন্তু নোয়া পাত্তা দিলেন না আবালগুলিকে।
নৌকা বানানোর কাজ শেষ হবার পর নোয়া সব পশুপাখি জোড়ায় জোড়ায় ভর্তি করার কাজ শুরু করলেন। একজোড়া গরু, একজোড়া ছাগল, একজোড়া ভেড়া ...।
দিন যায়। নানা পশুপাখি লক্ষ্মী ছেলেমেয়ের মতো গুটগুট করে হেঁটে এসে নোয়ার নায়ে ওঠে। নোয়া আকাশের দিকে তাকান। মেঘলা আকাশ। গুড়গুড় শব্দ হচ্ছে। সামনে তুমুল বৃষ্টি আর বান আছে। বুড়িগঙ্গা ফুঁসে উঠে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সমস্ত পৃথিবী।
নোয়া নৌকার নোঙর তুলে নেয়ার হুকুম দিলেন বড় ছেলেকে। সিঁড়ি বেয়ে নৌকায় ওঠার সময় দেখলেন, অদ্ভুত এক লোক দাঁড়িয়ে সিঁড়ির গোড়ায়।
"কে তুমি?" নোয়া শুধান।
অদ্ভুত দেখতে লোকটা দুইটা প্রকাণ্ড ময়লা হলুদ দাঁত বার করে হাসে। বলে, "আমি দাঁতাল বাঁশখোর। কবি ও চলচ্চিত্রনির্মাতা। ধর্মে উত্তরাধুনিক।"
নোয়া কিছু বলার আগেই ভীষণ বান ধেয়ে আসে। তিনি আর দাঁতাল দুজনেই পড়িমড়ি করে নৌকায় ওঠেন।
২.
দিন যায়।
চারদিকে পানি থই থই করছে। ডাঙার চিহ্নমাত্র নেই। নৌকার ভেতরে নিরিবিলিতে পাশাপাশি বসে বাঘ আর মোষ, সিংহ আর হরিণ, বেড়াল আর ইঁদুর।
নোয়ার ছেলে এসে বললো, "আব্বু আব্বু, ঐ নতুন লোকটা না প্রত্যেক রাতেই কী যেন করে! জীবজন্তুগুলি শুধু ছটফট করতে থাকে!"
নোয়ার মুখটা গম্ভীর হয়ে যায়।
তিনি গিয়ে দাঁতাল বাঁশখোরকে বলেন, "তারপর? কেমন কাটছে সবকিছু?"
দাঁতাল তার হলুদ দুই দাঁত বার করে হাসে। বলে, "প্রশ্নটা আমারে ভাবন করাইলো! আসলেই কেমন কাটে কোনো কিছু? আদৌ কি কাটে? কেমনই বা কাটা উচিত?"
নোয়া থতমত খেয়ে চলে আসেন।
একদিন রাত্তিরে হঠাৎ ঝুপ্পুস করে আওয়াজ হয়। নোয়া বিছানা ছেড়ে উঠে বেরিয়ে নৌকার খোলে ঢোকেন। ঢুকে দেখেন, দাঁতাল বাঁশখোরের পাশের জায়গাটা খালি। ওখানে কুমড়োপটাশ আর কুমড়োপটাশিনী বসে ছিলো ঘন্টাদুয়েক আগেও।
তিনি কঠিন স্বরে প্রশ্ন করেন, "দাঁতাল, কুমড়োপটাশ কোথায়?"
দাঁতাল একটা কাঠি দিয়ে তার ময়লা দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বলে, "কী জানি!"
নোয়া বলেন, "জানো না মানে? তোমার পাশেই তো তারা ছিলো?"
দাঁতাল উদাস গলায় বলে, "ছিলো, কিন্তু এখন নাই! এমন তো হরহামেশাই হচ্ছে। ছিলো একটা রুমাল, হয়ে গেলো বেড়াল!"
এমন সময় একটা কাঠবেড়ালি উঠে এসে বললো, "মহামতি নোয়া! অনুমতি দিলে কিছু কথা বলতে চাই!"
নোয়া বললেন, "অনুমতি দিলাম!"
কাঠবেড়ালি গলা খাঁকরে বললো, "মহামতি নোয়া, এই দাঁতাল বাঁশখোর প্রতি রাতে, রাতের আঁধারে গা ঢাকা দিয়ে নিদ্রিত আমাদের উপর হামলা চালায়। সে আমাদের সবার পোঁদে আঙুল দেয়। এই কাজ করে সে কী মজা পায়, তা আমরা জানি না, কিন্তু চেয়ে দেখুন, সবাই কীভাবে তার পেছন ঢেকে ঘুমিয়েছে!"
নোয়া চেয়ে দেখেন, কথা সত্য। গরু ছাগল বাঘ ভালুক সবাই নিজের পেছন আবৃত করে রেখেছে যে যেভাবে পারে।
কাঠবেড়ালি বলে, ছোট্ট ইন্দুর থেকে শুরু করে মস্ত হাতি, কেউ রেহাই পায়নি এই উংলিবাজি থেকে! কিন্তু অভিমানী কুমড়োপটাশ আর সহ্য করতে পারেনি, সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেছে!"
নোয়া চেয়ে দেখেন, দাঁতাল তার মধ্যমা শুঁকছে আনমনে।
তিনি বজ্রকণ্ঠে বললেন, "দাঁতাল বাঁশখোর, এই অভিযোগ কি সত্য?"
দাঁতাল হাই তুলে বললো, "কীসের অভিযোগ? কে করে কার বিরুদ্ধে অভিযোগ? সবার আগে যে প্রশ্নটা জিজ্ঞাসা করতে হয় তা হচ্ছে, অভিযোগ কারে বলে?"
নোয়া আর সহ্য করতে পারেন না, বলেন, "ওহে রাসকেল! এই নৌকার একটা নিয়মকানুন আছে! সেটা মেনে চলতে হবে!"
দাঁতাল হাসে দাঁত বার করে। বলে, "নিয়ম? কীসের নিয়ম? কে নিয়ম তৈয়ার করন ঘটন হওয়াইলো? এই নিয়মানুবর্তিতার জোয়াল কে কার কান্ধে চাপা করাইতে চায়? সমাজে নিয়মের মস্তানি চালু করতে চাওন ঘটায় কারা?"
নোয়া বড় ছেলেকে ডাকেন, "বাপধন! ডিঙ্গাটা নামা!"
৩.
দাঁতাল বাঁশখোরকে একরকম ঘাড়ে ধরে ডিঙ্গায় নামিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় অথৈ সাগরে। সাথে দেয়া হয় একটা দাঁতখিলাল।
দাঁতাল চেঁচাতে থাকে, "এই ফ্যাসিবাদি আচরণের জন্য নোয়াকে জবাবদিহি করতে হবে! স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে নৌকা চালানো যায় না! আমাকে অন্যায়ভাবে নৌকা থিকা বাইর কইরা দেওয়া হৈসে! এই ফ্যাসিবাদী নোয়া নিয়মকানুন বানানোর ক্যাঠা?"
নোয়া বলেন, "খুদাপেজ!"
পশুপাখি সকলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। ছাগল সন্তর্পণে একটা ছিপি বার করে আনে পেছন থেকে।
৪.
দিন যায়, মাছ যায়, বছর যায়। দাঁতাল বাঁশখোরের ডিঙা জলে ভাসে। দাঁতাল জলের মাছ আর আকাশের পাখি ধরে ধরে খায় আর বিড়বিড় করে নোয়াকে বকে।
এইভাবে কেটে যায় হাজার বছর। একদিন দাঁতালের ডিঙা ভেড়ে এক দ্বীপে। দাঁতাল ডিঙা টেনে তোলে সৈকতে। তারপর একটা নারকেল গাছে চড়ে। কয়েকটা ডাব পেড়ে খায়। তারপর লতাপাতা দিয়ে একটা কুটির বাঁধে। এক নিরীহ বুনো ছাগলিকে ধরে আনে এক রাতে।
এভাবেই চলে তার সংসার।
একদিন দাঁতাল কচুর মুখী দিয়ে মাছ রান্না করছে, সেই ধোঁয়া দেখে দূর থেকে এক সওদাগরী জাহাজের কাপ্তান দূরবীণ লাগিয়ে দেখেন, নারকেল গাছের নিচে এক দেড়েল প্রায় উলঙ্গ লোক আগুনের সামনে বসে। তিনি জলিবোট নামিয়ে লোকটাকে উদ্ধার করতে লোক পাঠান।
নাবিকেরা দাঁতালকে নৌকোয় করে নিয়ে আসে জাহাজে।
কাপ্তান বলেন, "হে দ্বীপবন্দী! তোমাকে আমি উদ্ধার করলাম। এখন তুমি আবার ফিরে যাবে মানবসভ্যতায়। তোমার নারকেলপাড়া জীবন, তোমার ছাগলচোদা জীবন, তোমার কচুর মুখী দিয়ে গেঁড়িগুগলি রান্নার জীবনের আজ ইতি ঘটলো!"
দাঁতাল বললো, "হুমম?"
কাপ্তান বললেন, "তা তুমি কোন দেশের লোক? কেনই বা এই দ্বীপে আটকা পড়ে আছো?"
দাঁতাল বললো, "শোনেন তাইলে! ফ্যাসিবাদি নোয়া আমারে তার জাহাজ থিকা অন্যায়ভাবে বাইর কৈরা দিসে!"
দাঁতাল বলে যায়। মিনিট পেরোয়। ঘন্টা পেরোয়। তিন ঘন্টা পর কাপ্তান কপালের ঘাম মুছে এক নাবিককে বলেন, "ঐ মোখলেছ! ডিঙ্গা নামা!"
৫.
দাঁতাল বাঁশখোরকে একরকম ঘাড়ে ধরে ডিঙ্গায় নামিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় অথৈ সাগরে। সাথে দেয়া হয় একটা দাঁতখিলাল।
দাঁতাল চেঁচাতে থাকে, "এই আচরণ নোয়ার মতোই ফ্যাসিবাদি! স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে নৌকা চালানো যায় না! আমাকে অন্যায়ভাবে যেমন নোয়ার নৌকা থিকা বাইর কইরা দেওয়া হৈসে, তেমনই তোমাগো নৌকা থিকাও বাইর কইরা দেওয়া হৈসে! তোমরা ফ্যাসিবাদীরা নিয়মকানুন বানানোর ক্যাঠা?"
কাপ্তান বলেন, "খুদাপেজ!"
নাবিকরা সকলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। কাপ্তান সন্তর্পণে একটা ছিপি বার করে আনেন কান থেকে।
৬.
দিন যায়, মাছ যায়, বছর যায়। দাঁতাল বাঁশখোরের ডিঙা জলে ভাসে। দাঁতাল জলের মাছ আর আকাশের পাখি ধরে ধরে খায় আর বিড়বিড় করে নোয়াকে বকে।
এইভাবে কেটে যায় হাজার বছর। একদিন দাঁতালের ডিঙা ভেড়ে আরেক দ্বীপে। দাঁতাল ডিঙা টেনে তোলে সৈকতে। তারপর একটা নারকেল গাছে চড়ে। কয়েকটা ডাব পেড়ে খায়। তারপর লতাপাতা দিয়ে একটা কুটির বাঁধে। এক নিরীহ বুনো ছাগলিকে ধরে আনে এক রাতে।
এভাবেই চলে তার সংসার।
একদিন দাঁতাল কচুর মুখী দিয়ে মাছ রান্না করছে, সেই ধোঁয়া দেখে দূর থেকে আরেক সওদাগরী জাহাজের কাপ্তান দূরবীণ লাগিয়ে দেখেন, নারকেল গাছের নিচে এক দেড়েল প্রায় উলঙ্গ লোক আগুনের সামনে বসে। তিনি জলিবোট নামিয়ে লোকটাকে উদ্ধার করতে লোক পাঠান।
নাবিকেরা দাঁতালকে নৌকোয় করে নিয়ে আসে জাহাজে।
কাপ্তান বলেন, "হে দ্বীপবন্দী! তোমাকে আমি উদ্ধার করলাম। এখন তুমি আবার ফিরে যাবে মানবসভ্যতায়। তোমার নারকেলপাড়া জীবন, তোমার ছাগলচোদা জীবন, তোমার কচুর মুখী দিয়ে গেঁড়িগুগলি রান্নার জীবনের আজ ইতি ঘটলো!"
দাঁতাল বললো, "হুমম?"
কাপ্তান বললেন, "তা তুমি কোন দেশের লোক? কেনই বা এই দ্বীপে আটকা পড়ে আছো?"
দাঁতাল বললো, "শোনেন তাইলে শুরু থিকা! ফ্যাসিবাদি নোয়া আমারে তার জাহাজ থিকা অন্যায়ভাবে বাইর কৈরা দিসে!"
দাঁতাল বলে যায়। মিনিট পেরোয়। ঘন্টা পেরোয়। তিন ঘন্টা পর কাপ্তান কপালের ঘাম মুছে এক নাবিককে বলেন, "ঐ মোখলেছ! ডিঙ্গা নামা!"
...
এই গল্প তার পর থেকে এভাবেই চলছে।
লেবেলসমূহ:
রম্য গল্প,
হাঁটুপানির জলদস্যু
দুখী গণ্ডারনামা ০৩
হাঁটুপানির জলদস্যু
.............
ক্যাম্নেকী বুঝতে হলে পড়ুন দুখী গণ্ডারনামা ০১
পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলো। বিশাল মাশরুম চারদিক অন্ধকার করে বেড়ে উঠলো। চতুর্দিকে ছুটলো তাপের হল্কা, বিটা রশ্মি, গামা রশ্মি, ডেল্টা রশ্মি।
পৃথিবীর মানুষ ধ্বংসের আগে কয়েক সেকেণ্ড পার করলো মহত্ত্বের সাথে। প্রেমিক প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো, তারপর পুড়ে ছাই হয়ে ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। বাঘ চুমু খেলো হরিণকে, বেড়াল ইঁদুরকে, গরু গোয়ালাকে।
ভয় পেলো না কেবল দাঁতাল বাঁশখোর। কারণ সে জানে, তার গায়ের ছাল্চামড়াকে হার মানানোর শক্তি কোনো বিটা-গামা-ডেল্টা রশ্মির নাই। এ চামড়া তো হার মানায় ব্রন্টোসরাসকেও।
কিন্তু যদি গায়ের রং কালা হয়া যায়? দাঁতাল ঘুরে ফিরে আয়নায় নিজের দুধে আলতা গায়ের রং দেখে। নাহ, রিস্ক নেয়া যায় না। ত্বকের রং বাঁচানোর জন্য সে চট করে একটা ফ্রিজে ঢুকে পড়ে ইন্ডিয়ানা জোন্সের মতো। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাপের হল্কা আর বিটা-গামা-ডেল্টা রশ্মির ঢেউ গ্রাস করে নেয় চারপাশ।
পৃথিবীর মৃত্যু ঘটে।
কিন্তু ওদিকে বাঁধে এক গেরো। ফ্রিজের দরজা আটকে যায়। ভেতরে আটকা পড়ে দাঁতাল বাঁশখোর। ঝুকঝুক করে চলতে থাকে ফ্রিজ, ভেতরে আটকা পড়ে জমে বরফ হয়ে যায় দাঁতাল বাঁশখোর।
এরপর কেটে যায় হাজার ব্ছর।
একদিন ল্যামডা সেন্টরাই নক্ষত্রমালার এক গ্রহ থেকে এসে হাজির হয় একদল পরোপকারী এলিয়েন। পৃথিবীর দশা দেখে দু:খে তাদের কানে জল চলে আসে। মূর্খ মানুষ হানাহানিতে মত্ত হয়ে কী দশাটাই করেছে গ্রহটার! তারা চটজলদি খবর দেয় তাদের ইনজিনিয়ারদের।
এলিয়েন মিস্ত্রিরা এসেই ঝাড়পোঁছ শুরু করে। নানা টেকনোলজি খাটিয়ে তারা যাবতীয় তেজস্ক্রিয়তা ঝেঁটিয়ে বিদায় করে। তারপর তাদের বীজ যাদুঘর থেকে খুঁজে খুঁজে সব গাছের বীজ ছড়ানো শুরু করে। একে একে ঘাস জন্মায়, বাঁশ জন্মায়, জন্মায় মহীরূহ। ফুল ফোটে, ফল ধরে, ওড়ে প্রজাপতি, বাদুড়, ডাকে পাখি, ব্যাং। মেঘ ডাকে, বৃষ্টি হয়, বাতাসে দোলে কৃষ্ণচূড়া ফুল।
এলিয়েনরা এক সংসদীয় উপদল পাঠায় পরিদর্শনে। তাদের নেতা এসে সব ঘুরে দেখে বলেন, বাহ বেশ! দারুণ! অহো!
হঠাৎ তাঁরা শোনেন, পাখির ডাক, ব্যাঙের ডাক, মেঘের ডাকের পাশাপাশি এক ক্ষীণ বদখদ ঝুকঝুক শব্দ।
তাঁরা এগিয়ে দেখেন, মাঠের মাঝে এক পোড়ো বাড়ি, তাতে এক ফ্রিজ। চলছে ঝুকঝুক করে।
তাঁরা এগিয়ে গিয়ে ফ্রিজের দরজা খুলে দেখেন, সেটার ভেতরে একটা ফ্রোজেন মুরগি, এক লিটার আইসক্রিম, আর বরফ জমাট এক অদ্ভুত জীব।
তৎক্ষণাৎ ডাক পড়ে বিজ্ঞানীদের। তারা এসে প্রথমে মুরগিটাকে চিমটা দিয়ে বা করে। তারপর সেটাকে গলায়। তারপর তার জিন পরীক্ষা করে তারা জানায়, এটা একটা মুরগি।
তারপর তারা আইসক্রিমটাকে চিমটা দিয়ে বা করে। তারপর সেটাকে গলায়। তারপর তার জিন পরীক্ষা করে তারা জানায়, এটা একটা আইসক্রিম।
এরপর তারা বরফজমা জীবটাকে চিমটা দিয়ে বা করে। তারপর সেটাকে গলায়। তারপর তার জিন পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ঝগড়া লেগে যায়। একদল বলে, এটা একটা গণ্ডার। একদল বলে, এটা ব্রন্টোসরাস। আরেকদল বলে, এটা বাঁশখোর।
সংসদীয় পরিদর্শক দল কড়া হুকুম দেয়, একে পুরোটা গলাও!
পুরোটা গলানোর পর পরিদর্শক দলের দলনেতা এসে জীবটাকে দেখে নাক সিঁটকান। এহ, এটা দেখতে এমন কেনু? কপাল নাই, ভুরু নাই, নাক নাই, ঠোঁট নাই, কেবল মুখে একটা বাঁশ গোঁজা! বাঁশ খেতে খেতেই ব্যাটা জমে গিয়েছিলো নাকি।
এক বিজ্ঞানী কানে কানে বলে, স্যার ভুল কর্ছেন স্যার! এটা ওর চেহারা নয়। আপনি উল্টোদিকটা দেখ্ছেন স্যার!
পরিদর্শক লজ্জা পেয়ে সোজা দিকটা দেখে নাক সিঁটকান। এহ, এর উল্টোদিকটাই তো চেহারার দিকটার চেয়ে ভালো ছিলো! যাই হোক, একে গরম করে কথা বলাও। জিজ্ঞেস করো ক্যাম্নেকী।
বিজ্ঞানীরা দাঁতালকে পুরোটা গলায়। তারপর তাকে জ্যান্ত করে।
দাঁতালের ঠোঁট কেঁপে ওঠে। সে চোখ মেলে, তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় বলে, আমি কোথায়?
বিজ্ঞানীরা বলেন, তুমি দাঁতাল বাঁশখোর। তোমাকে আমরা একটা ফ্রিজের মধ্যে পেয়েছি। তোমার এই অবস্থা হোলো কেমন করে?
দাঁতাল ছলোছলো চোখে বলে, শুনবেন? শুনবেন আমার কাহিনী?
বিজ্ঞানী আর সংসদীয় পরিদর্শক দল বলেন, অবশ্যই শুনবো।
দাঁতালের চোখ জ্বলে ওঠে, সে উঠে বসে তর্জনী উঁচিয়ে দৃপ্ত গলায় বলে, "তাইলে শুনেন! ফ্যাসিবাদী নোয়া আমারে অন্যায়ভাবে তার নৌকা থিকা বাইর কইরা দিসে ...!"
.............
ক্যাম্নেকী বুঝতে হলে পড়ুন দুখী গণ্ডারনামা ০১
পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলো। বিশাল মাশরুম চারদিক অন্ধকার করে বেড়ে উঠলো। চতুর্দিকে ছুটলো তাপের হল্কা, বিটা রশ্মি, গামা রশ্মি, ডেল্টা রশ্মি।
পৃথিবীর মানুষ ধ্বংসের আগে কয়েক সেকেণ্ড পার করলো মহত্ত্বের সাথে। প্রেমিক প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো, তারপর পুড়ে ছাই হয়ে ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। বাঘ চুমু খেলো হরিণকে, বেড়াল ইঁদুরকে, গরু গোয়ালাকে।
ভয় পেলো না কেবল দাঁতাল বাঁশখোর। কারণ সে জানে, তার গায়ের ছাল্চামড়াকে হার মানানোর শক্তি কোনো বিটা-গামা-ডেল্টা রশ্মির নাই। এ চামড়া তো হার মানায় ব্রন্টোসরাসকেও।
কিন্তু যদি গায়ের রং কালা হয়া যায়? দাঁতাল ঘুরে ফিরে আয়নায় নিজের দুধে আলতা গায়ের রং দেখে। নাহ, রিস্ক নেয়া যায় না। ত্বকের রং বাঁচানোর জন্য সে চট করে একটা ফ্রিজে ঢুকে পড়ে ইন্ডিয়ানা জোন্সের মতো। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাপের হল্কা আর বিটা-গামা-ডেল্টা রশ্মির ঢেউ গ্রাস করে নেয় চারপাশ।
পৃথিবীর মৃত্যু ঘটে।
কিন্তু ওদিকে বাঁধে এক গেরো। ফ্রিজের দরজা আটকে যায়। ভেতরে আটকা পড়ে দাঁতাল বাঁশখোর। ঝুকঝুক করে চলতে থাকে ফ্রিজ, ভেতরে আটকা পড়ে জমে বরফ হয়ে যায় দাঁতাল বাঁশখোর।
এরপর কেটে যায় হাজার ব্ছর।
একদিন ল্যামডা সেন্টরাই নক্ষত্রমালার এক গ্রহ থেকে এসে হাজির হয় একদল পরোপকারী এলিয়েন। পৃথিবীর দশা দেখে দু:খে তাদের কানে জল চলে আসে। মূর্খ মানুষ হানাহানিতে মত্ত হয়ে কী দশাটাই করেছে গ্রহটার! তারা চটজলদি খবর দেয় তাদের ইনজিনিয়ারদের।
এলিয়েন মিস্ত্রিরা এসেই ঝাড়পোঁছ শুরু করে। নানা টেকনোলজি খাটিয়ে তারা যাবতীয় তেজস্ক্রিয়তা ঝেঁটিয়ে বিদায় করে। তারপর তাদের বীজ যাদুঘর থেকে খুঁজে খুঁজে সব গাছের বীজ ছড়ানো শুরু করে। একে একে ঘাস জন্মায়, বাঁশ জন্মায়, জন্মায় মহীরূহ। ফুল ফোটে, ফল ধরে, ওড়ে প্রজাপতি, বাদুড়, ডাকে পাখি, ব্যাং। মেঘ ডাকে, বৃষ্টি হয়, বাতাসে দোলে কৃষ্ণচূড়া ফুল।
এলিয়েনরা এক সংসদীয় উপদল পাঠায় পরিদর্শনে। তাদের নেতা এসে সব ঘুরে দেখে বলেন, বাহ বেশ! দারুণ! অহো!
হঠাৎ তাঁরা শোনেন, পাখির ডাক, ব্যাঙের ডাক, মেঘের ডাকের পাশাপাশি এক ক্ষীণ বদখদ ঝুকঝুক শব্দ।
তাঁরা এগিয়ে দেখেন, মাঠের মাঝে এক পোড়ো বাড়ি, তাতে এক ফ্রিজ। চলছে ঝুকঝুক করে।
তাঁরা এগিয়ে গিয়ে ফ্রিজের দরজা খুলে দেখেন, সেটার ভেতরে একটা ফ্রোজেন মুরগি, এক লিটার আইসক্রিম, আর বরফ জমাট এক অদ্ভুত জীব।
তৎক্ষণাৎ ডাক পড়ে বিজ্ঞানীদের। তারা এসে প্রথমে মুরগিটাকে চিমটা দিয়ে বা করে। তারপর সেটাকে গলায়। তারপর তার জিন পরীক্ষা করে তারা জানায়, এটা একটা মুরগি।
তারপর তারা আইসক্রিমটাকে চিমটা দিয়ে বা করে। তারপর সেটাকে গলায়। তারপর তার জিন পরীক্ষা করে তারা জানায়, এটা একটা আইসক্রিম।
এরপর তারা বরফজমা জীবটাকে চিমটা দিয়ে বা করে। তারপর সেটাকে গলায়। তারপর তার জিন পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ঝগড়া লেগে যায়। একদল বলে, এটা একটা গণ্ডার। একদল বলে, এটা ব্রন্টোসরাস। আরেকদল বলে, এটা বাঁশখোর।
সংসদীয় পরিদর্শক দল কড়া হুকুম দেয়, একে পুরোটা গলাও!
পুরোটা গলানোর পর পরিদর্শক দলের দলনেতা এসে জীবটাকে দেখে নাক সিঁটকান। এহ, এটা দেখতে এমন কেনু? কপাল নাই, ভুরু নাই, নাক নাই, ঠোঁট নাই, কেবল মুখে একটা বাঁশ গোঁজা! বাঁশ খেতে খেতেই ব্যাটা জমে গিয়েছিলো নাকি।
এক বিজ্ঞানী কানে কানে বলে, স্যার ভুল কর্ছেন স্যার! এটা ওর চেহারা নয়। আপনি উল্টোদিকটা দেখ্ছেন স্যার!
পরিদর্শক লজ্জা পেয়ে সোজা দিকটা দেখে নাক সিঁটকান। এহ, এর উল্টোদিকটাই তো চেহারার দিকটার চেয়ে ভালো ছিলো! যাই হোক, একে গরম করে কথা বলাও। জিজ্ঞেস করো ক্যাম্নেকী।
বিজ্ঞানীরা দাঁতালকে পুরোটা গলায়। তারপর তাকে জ্যান্ত করে।
দাঁতালের ঠোঁট কেঁপে ওঠে। সে চোখ মেলে, তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় বলে, আমি কোথায়?
বিজ্ঞানীরা বলেন, তুমি দাঁতাল বাঁশখোর। তোমাকে আমরা একটা ফ্রিজের মধ্যে পেয়েছি। তোমার এই অবস্থা হোলো কেমন করে?
দাঁতাল ছলোছলো চোখে বলে, শুনবেন? শুনবেন আমার কাহিনী?
বিজ্ঞানী আর সংসদীয় পরিদর্শক দল বলেন, অবশ্যই শুনবো।
দাঁতালের চোখ জ্বলে ওঠে, সে উঠে বসে তর্জনী উঁচিয়ে দৃপ্ত গলায় বলে, "তাইলে শুনেন! ফ্যাসিবাদী নোয়া আমারে অন্যায়ভাবে তার নৌকা থিকা বাইর কইরা দিসে ...!"
লেবেলসমূহ:
রম্য গল্প,
হাঁটুপানির জলদস্যু
দুখী গণ্ডারনামা ০২
হাঁটুপানির জলদস্যু
................
ক্যাম্নেকী বুঝতে হলে পড়ুন দুখী গণ্ডারনামা ০১
১.
এক এলিয়েনবাহিনী আক্রমণ করেছে পৃথিবীকে। সারা পৃথিবী তাদের তাণ্ডবে অস্থির।
অদ্ভুত এই এলিয়েনদের অস্ত্র। লেজারের সাথে জীবাণু ঘুঁটে বানানো তাদের উইপনস অব ম্যাস ডেস্ট্রাকশন! লেজারে চড়ে শত্রুর চামড়া ভেদ করে ঢুকে পড়ে জীবাণুগুলি, তারপর ভেতরটা একেবারে চেটেপুটে খেয়ে সাফ করে ফেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই। শত্রু মাটিতে পড়ে তড়পাতে থাকে, তারপর পটল তোলে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা তার মেরিন কোরকে পাঠান এই বদখদ এলিয়েনদের শায়েস্তা করতে। মেরিন বাহিনী একটা ফ্রিগেটে চড়ে নামে ফরাসী উপকূলে। আইফেল টাওয়ার দখল করে বসে আছে এলিয়েনগুলি।
এলিয়েন সম্রাট মেরিন কোরকে দূর থেকে দেখে হেসেই খুন। সে হুকুম দ্যায়, চালাও গোলিয়াঁ। মস্ত এক জীবাণু লেজারের কামান গর্জে ওঠে, মেরিন সেনাদের মুখের চামড়া পোঁদের চামড়া ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে সেই জীবাণু, তারপর একদম ফর্দাফাই করে দেয় পুরো বাহিনীকে!
এভাবে একে একে খতম হয় রুশ সেনারা, চৈনিক সেনারা, ইসরায়েলি সেনারা, হিজবুল্লাহ গেরিলারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভয়ের চোটে মাটির নিচের এক গর্তে বসে জরুরি মিটিং ডাকেন।
"আমি প্রস্তাব করছি, ড়্যাম্বোকে পাঠানো হৌক এদের খতম করার জন্য!" ওবামা বলেন।
এক জেনারেল তাঁর কানে কানে বলেন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, ওটা এক্টা সিনেমা। ড়্যাম্বো বলতে কেউ নেই!
ওবামা বলেন, "তাহলে টার্মিনেটর?"
জেনারেল মাথা নাড়েন। ওটাও সিনেমা।
ওবামা এক এক করে চাক নরিস, স্টিভেন সিগাল ইত্যাদি আরো সব মারদাঙ্গা লুকজনের নাম বলেন। কিন্তু তারা অভিনেতা মাত্র।
কনফারেন্স টেবিলের এক কোণায় বসা এক বুড়ো অ্যাডমিরাল আচমকা মাথা তুলে চাপা গলায় বলেন, "আছে, উপায় আছে!"
ওবামা বলেন, "কী?"
অ্যাডমিরাল বলেন, "বাংলাদেশে এক লুক আছে, যে এই এলিয়েনদের মেরে বিনাশ করতে পারবে!"
ওবামা বলেন, "কে সে? কী তার নাম?"
অ্যাডমিরাল বলেন, "দাঁতাল! দাঁতাল বাঁশখোর!"
২.
বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল গুলজার উ গুলজার ফোনে সব কথা মন দিয়ে শোনেন। তারপর বলেন, "ঠিকাছে মিস্টার প্রেসিডেন্ট। তাকে আমরা প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তবে ...।"
ওবামা বলেন, "তুমার তো সাহস কম না জেনারেল! ইউনাইটেড ফাকিং স্টেইটস অব অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্টকে তুমি "তবে" বলো? আর কোনো কথা শুনতে চাই না! পত্রপাঠ তাকে প্যাক করে পাঠাও, নাহলে ...!
জেনারেল গুলজার বিরক্ত হয়ে বলেন, "ইয়েস স্যার!"
তার এডিসি কর্ণেল সরফরাজ এ সরফরাজ বলেন, "স্যার! কী করবো স্যার?"
জেনারেল গুলজার বলেন, "কী আর করবা? উপকার করতে চাইছিলাম হালার ভাইয়ের, শুনতেই চায় না! দাও এমনেই পাঠায়া!"
কর্ণেল সরফরাজ বলে, "মুখে টেপ লাগাবো না স্যার?"
জেনারেল গুলজার বলেন, "দরকার নাই! ওদের ঝামেলা ওরা বুঝুকগা!"
৩.
দাঁতাল বাঁশখোর আজিজ সুপারমার্কেটের একটা গেঞ্জির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে রাজাউজির মারছিলো, কবে সে জাহাঙ্গীরজঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঁশঝাড়ে একটা বাঁশ কেটে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার নিধন করেছিলো, এবং সেটির পায়া দিয়ে নেহারি আর পরোটা খেয়েছিলো রাতে, এমন সময় জলপাই রঙের এক ট্রাক এসে থামে। মুখে কালি মাখা কয়েকজন মিশমিশে কমাণ্ডো এসে চোখের পলকে তাকে এক্টা বস্তায় ভরে উল্কাবেগে ছুটে চলে এয়ারপোর্টের দিকে।
৪.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বিরক্তি আর বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন দাঁতাল বাঁশখোরের দিকে। এ-ই সেই সুপারম্যান, যার ওপর নির্ভর করছে বিশ্বের ভবিষ্যত? এ তো মনুষ্য পদবাচ্যই নয়!
দাঁতার বাঁশখোর ঘাড় ঘুরিয়ে হোয়াইট হাউসের অফিস দেখতে থাকে।
"মিস্টার বাঁশখোর! আপনার ওপরই নির্ভর করছে পৃথিবীর ভবিষ্যত!" ওবামা গমগম করে বলেন। "এই পরিস্থিতি চলতে পারে না! চেইঞ্জ উই নিড!"
দাঁতাল বলে, "কোন পৃথিবী? প্রথম বিশ্ব না তৃতীয় বিশ্ব? কোন ভবিষ্যত? নিকট না দূর? পরিস্থিতি কারে বলে? চলা কারে কয়? কীসের চেইঞ্জ, কার নিড, উই কারা?"
প্রেসিডেন্টের মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে। তিনি বলেন, "আপনাকে তো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে! এক ভীষণ এলিয়েন ...!"
দাঁতাল বলে, "হ শুঞ্ছি বটে!"
প্রেসিডেন্ট বলেন, "তা আপনি কী করে এমন একজন সুপারম্যানে পরিণত হলেন?"
দাঁতাল বলে, "সে এক লম্বা কাহিনী! আমারে নোয়ার নৌকা থিকা অন্যায়ভাবে বাইর কইরা দেয়া হইসে!"
এরপর সে বকে যায়। পাঁচমিনিট শোনার পর ওবামা দু'হাতে কান চেপে ধরেন। বলেন, "প্লিজ! চুপ করুন! যা চান দেয়া হবে!"
দাঁতাল বলে, "আরে বাকিটা আগে শোনেন না! তারপর নোয়া আমারে কইলো, খাড়া গর্দভ, তোরে যদি আজকে পোন্দাইয়া শ্যাষ না কর্ছি ...!"
ওবামা আবার দু'হাতে কান চেপে ধরে বলেন, "না প্লিজ না! থামেন! চুপ!"
দাঁতাল একটু থামে।
প্রেসিডেন্ট কান চেপে ধরে রেখেই বলেন, "তা বলেন আপনার কী অস্ত্র কয়টা করে চাই? মেশিনগান? অ্যান্টিট্যাঙ্ক রকেটলঞ্চার? স্টেলথ চপার? ড্রোন স্কোয়াড্রন?"
দাঁতাল মৃদু হাসে। তারপর বলে, "আগে শোনেনই না নোয়ারে তারপর কী কইলাম ...!"
প্রেসিডেন্ট আবার দু'হাতে কান চেপে ধরে বলেন, "না না না না! কিচ্ছু শুনবো না এসব! গ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্না ...।"
দাঁতাল তার ময়লা বিশাল দাঁত দুইটা বার করে হেসে বলে, "এইসব অস্ত্র কিচ্ছু লাগবে না আমার! আপনার টেবিল থেকে কয়েকটা দাঁতখিলাল দ্যান আমারে!"
প্রেসিডেন্ট কান থেকে হাত নামিয়ে দাঁতখিলালের কৌটার দিকে হাত বাড়ান।
অমনি দাঁতাল সোৎসাহে বলা শুরু করে, "আমি কইলাম, ওরে ফ্যাসিবাদী নোয়া, আমার জরায়ু দিয়া ফ্যাসিবাদ রপ্তানি করবি? তা হবে না, তা হবে না ...!"
ওবামা আবার কান চেপে ধরে মাটিতে গড়াতে থাকেন। "না না না না না! শুনবো না এসব! দাঁতখিলাল নিয়ে বিদায় হও!"
দাঁতাল হাসতে হাসতে দাঁতখিলালের কৌটাটা পকেটে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। ওবামা ছুটে গিয়ে দরজার খিল আটকে কপাটে ঠেস দিয়ে হাঁপাতে থাকেন।
দরজায় আবার টোকা পড়ে। নক নক।
ওবামা বলেন, কে ওখানে?
দাঁতাল বলে, আমি, বাঁশখোর।
ওবামা বলেন, কী চাও?
দাঁতাল বলে, একটা কথা বলতে ভুলে গেছিলাম।
ওবামা দরজা খুলে সন্তর্পণে উঁকি দিয়ে বলেন, "কী?"
দাঁতাল বলে, "তারপর নোয়া কইলো, তোর মতো গর্দভরে লাত্থি দিয়া নৌকা থিকা খেদানির কাম, ব্যাটা উল্লুক! আমি কইলাম ...।"
ওবামা অজ্ঞান হয়ে যান।
৫.
একটা হেলিকপ্টার চুপি চুপি গোপনে আইফেল টাওয়ারের কাছে নামিয়ে দেয় দাঁতালকে।
দাঁতাল পাইলটকে বলে, "এক্টা কথা ছিলো।"
পাইলট গম্ভীরমুখে বলে, "আমার উপর পরিষ্কার নির্দেশ আছে, তোমার কোনো কথা আমার শোনা চলবে না।"
দাঁতাল বলে, "আরে না। জরুরি কথা।"
পাইলট বলে, "তোমার কথা আমি শুনবো কীভাবে? হেলিকপ্টারের পাখার আওয়াজে কোনো কিচ্ছু শোনার উপায় নাই। তোমার যা বলার তুমি এলিয়েনগুলিরে গিয়া বলো!"
দাঁতাল বলে, "আহ শোনোই না! পাখাটা বন্ধ করো এক্টু।"
পাইলট পাখা বন্ধ করে।
দাঁতাল বলে, "এইবার কান থেকে ছিপি দুইটা বের করো।"
পাইলট অনিচ্ছাসত্ত্বেও ছিপি দুইটা খোলে।
দাঁতাল বলে, "তারপর হইছে কি, আমারে তো নোয়া অন্যায়ভাবে নৌকা থিকা বাইর কইরা দিলো ...।"
পাইলট চোখের পলকে কানে ছিপি এঁটে হেলিকপ্টার চালু করে আকাশে উড়াল দেয়। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারে না, এক ভীষণ লেজার এসে গ্রাস করে হেলিকপ্টারটাকে। কিছুক্ষণ পর সেটা আছড়ে পড়ে মাটিতে।
দাঁতাল বাঁশখোর তার চে গেভারার ছবি আঁকা গেঞ্জিটা ঠিকঠাক করে এগিয়ে যায় গটগটিয়ে।
এলিয়েনরা তাকে দেখেই লেজার মারে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। কারণ দাঁতালের গায়ে ব্রন্টোসরাসের মতো মোটা চামড়া। আগুনে তা পোড়ে না। জলে তা ভেজে না। ণৈণং ছিন্দান্তি শস্ত্রাণি। জীবাণুগুলি তার চামড়ায় বাড়ি খেয়ে পটল তোলে।
এলিয়েন সম্রাটের বুকটা দুরুদুরু করে ওঠে। কে এই সুপারম্যান?
দাঁতাল এগিয়ে গিয়ে একটা ঢিপির ওপর বসে। এলিয়েন সম্রাট এক্টা লেজার পিস্তল নিয়ে কম্পিত পায়ে এগিয়ে যায় তার দিকে।
"কে তুমি?" পিস্তল উঁচিয়ে কাঁপা গলায় শুধায় সে।
দাঁতাল তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে তাকে দেখে, তারপর বলে। "খোর। বাঁশখোর।"
এলিয়েন সম্রাট কিছু বুঝতে না পেরে জুলজুলিয়ে তাকিয়ে থাকে।
দাঁতাল তার হোলস্টার থেকে ঝট করে বার করে একটা দাঁতখিলাল।
সম্রাট চমকে উঠে এলোপাতাড়ি লেজার মারে, কিন্তু দাঁতালের কিছুই হয় না।
খিলাল দিয়ে ময়লা হলুদ দাঁত দুইটা খোঁচাতে খোঁচাতে দাঁতাল বলে, "এক্টা গল্প শুনবা?"
এলিয়েন সম্রাট কাঁপতে কাঁপতে বলে, "কী গল্প?"
এইবার এক্টা হ্যাণ্ডমাইক নিয়ে দাঁতাল বলতে থাকে, "ফ্যাসিবাদী নোয়া আমারে অন্যায়ভাবে নৌকা থিকা বাইর কইরা দিসে ...!"
গল্প চলতে থাকে। পাঁচ মিনিট পর এলিয়েন সম্রাট নিজের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করে।
দশ মিনিট পর কানে আঙুল ঢোকাতে গিয়ে শর্টসার্কিট হয়ে মৃত্যুবরণ করে বেশিরভাগ এলিয়েন। কয়েকটা এলিয়েন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নরম্যান্ডি উপকূলে ডুবে মরে। হারাকিরি করে এলিয়েনদের বউগুলি। একটা বাচ্চা এলিয়েনকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দত্তক নেয়।
এলিয়েনদের উপসেনাপ্রধান, তাদের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে এসে দাঁতালের হাঁটু চেপে ধরে। কাশতে কাশতে তার মুখ দিয়ে রক্ত ছলকে পড়ে। "প্লিজ! থামো! ... আমি সারেন্ডার করছি! আর না!"
দাঁতালের মনটা ভিজে যায়। চোখে জল আসে তার। তারপর পকেট থেকে দুর্গন্ধী রুমাল বার করে এলিয়েন পালোয়ানের কষ থেকে রক্ত মুছে দেয়। তার কাঁধে হাত রেখে বলে, "ঠিক তোমার মতোই অবস্থা হৈছিলো ফ্যাসিবাদী নোয়ার, যখন তারে জিগাইছিলাম, এই ফ্যাসিবাদী মনোভাব লৈয়া তুমি আমার জরায়ু ব্যবহার করতে পারবা, এই আশা তুমি অবচেতনে লালন করন ঘটন হওয়ায় ক্যাম্নে ...!"
এলিয়েন পালোয়ান কাঁপতে কাঁপতে পড়ে যায়। তারপর মরে যায়।
৬.
দূর থেকে বাইনোকুলার দিয়ে এই দৃশ্য দেখে এক মার্কিন সেনাকর্তা ওয়্যারলেস তুলে বলে, "মিশন অ্যাকমপ্লিশড! এখন কী করবো স্যার?"
ওবামা বলেন, "ক্লোরোফরম করে আজিজ মার্কেটে ছেড়ে দিয়ে আসো বলদাটাকে।"
................
ক্যাম্নেকী বুঝতে হলে পড়ুন দুখী গণ্ডারনামা ০১
১.
এক এলিয়েনবাহিনী আক্রমণ করেছে পৃথিবীকে। সারা পৃথিবী তাদের তাণ্ডবে অস্থির।
অদ্ভুত এই এলিয়েনদের অস্ত্র। লেজারের সাথে জীবাণু ঘুঁটে বানানো তাদের উইপনস অব ম্যাস ডেস্ট্রাকশন! লেজারে চড়ে শত্রুর চামড়া ভেদ করে ঢুকে পড়ে জীবাণুগুলি, তারপর ভেতরটা একেবারে চেটেপুটে খেয়ে সাফ করে ফেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই। শত্রু মাটিতে পড়ে তড়পাতে থাকে, তারপর পটল তোলে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা তার মেরিন কোরকে পাঠান এই বদখদ এলিয়েনদের শায়েস্তা করতে। মেরিন বাহিনী একটা ফ্রিগেটে চড়ে নামে ফরাসী উপকূলে। আইফেল টাওয়ার দখল করে বসে আছে এলিয়েনগুলি।
এলিয়েন সম্রাট মেরিন কোরকে দূর থেকে দেখে হেসেই খুন। সে হুকুম দ্যায়, চালাও গোলিয়াঁ। মস্ত এক জীবাণু লেজারের কামান গর্জে ওঠে, মেরিন সেনাদের মুখের চামড়া পোঁদের চামড়া ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে সেই জীবাণু, তারপর একদম ফর্দাফাই করে দেয় পুরো বাহিনীকে!
এভাবে একে একে খতম হয় রুশ সেনারা, চৈনিক সেনারা, ইসরায়েলি সেনারা, হিজবুল্লাহ গেরিলারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভয়ের চোটে মাটির নিচের এক গর্তে বসে জরুরি মিটিং ডাকেন।
"আমি প্রস্তাব করছি, ড়্যাম্বোকে পাঠানো হৌক এদের খতম করার জন্য!" ওবামা বলেন।
এক জেনারেল তাঁর কানে কানে বলেন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, ওটা এক্টা সিনেমা। ড়্যাম্বো বলতে কেউ নেই!
ওবামা বলেন, "তাহলে টার্মিনেটর?"
জেনারেল মাথা নাড়েন। ওটাও সিনেমা।
ওবামা এক এক করে চাক নরিস, স্টিভেন সিগাল ইত্যাদি আরো সব মারদাঙ্গা লুকজনের নাম বলেন। কিন্তু তারা অভিনেতা মাত্র।
কনফারেন্স টেবিলের এক কোণায় বসা এক বুড়ো অ্যাডমিরাল আচমকা মাথা তুলে চাপা গলায় বলেন, "আছে, উপায় আছে!"
ওবামা বলেন, "কী?"
অ্যাডমিরাল বলেন, "বাংলাদেশে এক লুক আছে, যে এই এলিয়েনদের মেরে বিনাশ করতে পারবে!"
ওবামা বলেন, "কে সে? কী তার নাম?"
অ্যাডমিরাল বলেন, "দাঁতাল! দাঁতাল বাঁশখোর!"
২.
বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল গুলজার উ গুলজার ফোনে সব কথা মন দিয়ে শোনেন। তারপর বলেন, "ঠিকাছে মিস্টার প্রেসিডেন্ট। তাকে আমরা প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তবে ...।"
ওবামা বলেন, "তুমার তো সাহস কম না জেনারেল! ইউনাইটেড ফাকিং স্টেইটস অব অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্টকে তুমি "তবে" বলো? আর কোনো কথা শুনতে চাই না! পত্রপাঠ তাকে প্যাক করে পাঠাও, নাহলে ...!
জেনারেল গুলজার বিরক্ত হয়ে বলেন, "ইয়েস স্যার!"
তার এডিসি কর্ণেল সরফরাজ এ সরফরাজ বলেন, "স্যার! কী করবো স্যার?"
জেনারেল গুলজার বলেন, "কী আর করবা? উপকার করতে চাইছিলাম হালার ভাইয়ের, শুনতেই চায় না! দাও এমনেই পাঠায়া!"
কর্ণেল সরফরাজ বলে, "মুখে টেপ লাগাবো না স্যার?"
জেনারেল গুলজার বলেন, "দরকার নাই! ওদের ঝামেলা ওরা বুঝুকগা!"
৩.
দাঁতাল বাঁশখোর আজিজ সুপারমার্কেটের একটা গেঞ্জির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে রাজাউজির মারছিলো, কবে সে জাহাঙ্গীরজঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঁশঝাড়ে একটা বাঁশ কেটে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার নিধন করেছিলো, এবং সেটির পায়া দিয়ে নেহারি আর পরোটা খেয়েছিলো রাতে, এমন সময় জলপাই রঙের এক ট্রাক এসে থামে। মুখে কালি মাখা কয়েকজন মিশমিশে কমাণ্ডো এসে চোখের পলকে তাকে এক্টা বস্তায় ভরে উল্কাবেগে ছুটে চলে এয়ারপোর্টের দিকে।
৪.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বিরক্তি আর বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন দাঁতাল বাঁশখোরের দিকে। এ-ই সেই সুপারম্যান, যার ওপর নির্ভর করছে বিশ্বের ভবিষ্যত? এ তো মনুষ্য পদবাচ্যই নয়!
দাঁতার বাঁশখোর ঘাড় ঘুরিয়ে হোয়াইট হাউসের অফিস দেখতে থাকে।
"মিস্টার বাঁশখোর! আপনার ওপরই নির্ভর করছে পৃথিবীর ভবিষ্যত!" ওবামা গমগম করে বলেন। "এই পরিস্থিতি চলতে পারে না! চেইঞ্জ উই নিড!"
দাঁতাল বলে, "কোন পৃথিবী? প্রথম বিশ্ব না তৃতীয় বিশ্ব? কোন ভবিষ্যত? নিকট না দূর? পরিস্থিতি কারে বলে? চলা কারে কয়? কীসের চেইঞ্জ, কার নিড, উই কারা?"
প্রেসিডেন্টের মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে। তিনি বলেন, "আপনাকে তো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে! এক ভীষণ এলিয়েন ...!"
দাঁতাল বলে, "হ শুঞ্ছি বটে!"
প্রেসিডেন্ট বলেন, "তা আপনি কী করে এমন একজন সুপারম্যানে পরিণত হলেন?"
দাঁতাল বলে, "সে এক লম্বা কাহিনী! আমারে নোয়ার নৌকা থিকা অন্যায়ভাবে বাইর কইরা দেয়া হইসে!"
এরপর সে বকে যায়। পাঁচমিনিট শোনার পর ওবামা দু'হাতে কান চেপে ধরেন। বলেন, "প্লিজ! চুপ করুন! যা চান দেয়া হবে!"
দাঁতাল বলে, "আরে বাকিটা আগে শোনেন না! তারপর নোয়া আমারে কইলো, খাড়া গর্দভ, তোরে যদি আজকে পোন্দাইয়া শ্যাষ না কর্ছি ...!"
ওবামা আবার দু'হাতে কান চেপে ধরে বলেন, "না প্লিজ না! থামেন! চুপ!"
দাঁতাল একটু থামে।
প্রেসিডেন্ট কান চেপে ধরে রেখেই বলেন, "তা বলেন আপনার কী অস্ত্র কয়টা করে চাই? মেশিনগান? অ্যান্টিট্যাঙ্ক রকেটলঞ্চার? স্টেলথ চপার? ড্রোন স্কোয়াড্রন?"
দাঁতাল মৃদু হাসে। তারপর বলে, "আগে শোনেনই না নোয়ারে তারপর কী কইলাম ...!"
প্রেসিডেন্ট আবার দু'হাতে কান চেপে ধরে বলেন, "না না না না! কিচ্ছু শুনবো না এসব! গ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্নাগ্না ...।"
দাঁতাল তার ময়লা বিশাল দাঁত দুইটা বার করে হেসে বলে, "এইসব অস্ত্র কিচ্ছু লাগবে না আমার! আপনার টেবিল থেকে কয়েকটা দাঁতখিলাল দ্যান আমারে!"
প্রেসিডেন্ট কান থেকে হাত নামিয়ে দাঁতখিলালের কৌটার দিকে হাত বাড়ান।
অমনি দাঁতাল সোৎসাহে বলা শুরু করে, "আমি কইলাম, ওরে ফ্যাসিবাদী নোয়া, আমার জরায়ু দিয়া ফ্যাসিবাদ রপ্তানি করবি? তা হবে না, তা হবে না ...!"
ওবামা আবার কান চেপে ধরে মাটিতে গড়াতে থাকেন। "না না না না না! শুনবো না এসব! দাঁতখিলাল নিয়ে বিদায় হও!"
দাঁতাল হাসতে হাসতে দাঁতখিলালের কৌটাটা পকেটে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। ওবামা ছুটে গিয়ে দরজার খিল আটকে কপাটে ঠেস দিয়ে হাঁপাতে থাকেন।
দরজায় আবার টোকা পড়ে। নক নক।
ওবামা বলেন, কে ওখানে?
দাঁতাল বলে, আমি, বাঁশখোর।
ওবামা বলেন, কী চাও?
দাঁতাল বলে, একটা কথা বলতে ভুলে গেছিলাম।
ওবামা দরজা খুলে সন্তর্পণে উঁকি দিয়ে বলেন, "কী?"
দাঁতাল বলে, "তারপর নোয়া কইলো, তোর মতো গর্দভরে লাত্থি দিয়া নৌকা থিকা খেদানির কাম, ব্যাটা উল্লুক! আমি কইলাম ...।"
ওবামা অজ্ঞান হয়ে যান।
৫.
একটা হেলিকপ্টার চুপি চুপি গোপনে আইফেল টাওয়ারের কাছে নামিয়ে দেয় দাঁতালকে।
দাঁতাল পাইলটকে বলে, "এক্টা কথা ছিলো।"
পাইলট গম্ভীরমুখে বলে, "আমার উপর পরিষ্কার নির্দেশ আছে, তোমার কোনো কথা আমার শোনা চলবে না।"
দাঁতাল বলে, "আরে না। জরুরি কথা।"
পাইলট বলে, "তোমার কথা আমি শুনবো কীভাবে? হেলিকপ্টারের পাখার আওয়াজে কোনো কিচ্ছু শোনার উপায় নাই। তোমার যা বলার তুমি এলিয়েনগুলিরে গিয়া বলো!"
দাঁতাল বলে, "আহ শোনোই না! পাখাটা বন্ধ করো এক্টু।"
পাইলট পাখা বন্ধ করে।
দাঁতাল বলে, "এইবার কান থেকে ছিপি দুইটা বের করো।"
পাইলট অনিচ্ছাসত্ত্বেও ছিপি দুইটা খোলে।
দাঁতাল বলে, "তারপর হইছে কি, আমারে তো নোয়া অন্যায়ভাবে নৌকা থিকা বাইর কইরা দিলো ...।"
পাইলট চোখের পলকে কানে ছিপি এঁটে হেলিকপ্টার চালু করে আকাশে উড়াল দেয়। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারে না, এক ভীষণ লেজার এসে গ্রাস করে হেলিকপ্টারটাকে। কিছুক্ষণ পর সেটা আছড়ে পড়ে মাটিতে।
দাঁতাল বাঁশখোর তার চে গেভারার ছবি আঁকা গেঞ্জিটা ঠিকঠাক করে এগিয়ে যায় গটগটিয়ে।
এলিয়েনরা তাকে দেখেই লেজার মারে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। কারণ দাঁতালের গায়ে ব্রন্টোসরাসের মতো মোটা চামড়া। আগুনে তা পোড়ে না। জলে তা ভেজে না। ণৈণং ছিন্দান্তি শস্ত্রাণি। জীবাণুগুলি তার চামড়ায় বাড়ি খেয়ে পটল তোলে।
এলিয়েন সম্রাটের বুকটা দুরুদুরু করে ওঠে। কে এই সুপারম্যান?
দাঁতাল এগিয়ে গিয়ে একটা ঢিপির ওপর বসে। এলিয়েন সম্রাট এক্টা লেজার পিস্তল নিয়ে কম্পিত পায়ে এগিয়ে যায় তার দিকে।
"কে তুমি?" পিস্তল উঁচিয়ে কাঁপা গলায় শুধায় সে।
দাঁতাল তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে তাকে দেখে, তারপর বলে। "খোর। বাঁশখোর।"
এলিয়েন সম্রাট কিছু বুঝতে না পেরে জুলজুলিয়ে তাকিয়ে থাকে।
দাঁতাল তার হোলস্টার থেকে ঝট করে বার করে একটা দাঁতখিলাল।
সম্রাট চমকে উঠে এলোপাতাড়ি লেজার মারে, কিন্তু দাঁতালের কিছুই হয় না।
খিলাল দিয়ে ময়লা হলুদ দাঁত দুইটা খোঁচাতে খোঁচাতে দাঁতাল বলে, "এক্টা গল্প শুনবা?"
এলিয়েন সম্রাট কাঁপতে কাঁপতে বলে, "কী গল্প?"
এইবার এক্টা হ্যাণ্ডমাইক নিয়ে দাঁতাল বলতে থাকে, "ফ্যাসিবাদী নোয়া আমারে অন্যায়ভাবে নৌকা থিকা বাইর কইরা দিসে ...!"
গল্প চলতে থাকে। পাঁচ মিনিট পর এলিয়েন সম্রাট নিজের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করে।
দশ মিনিট পর কানে আঙুল ঢোকাতে গিয়ে শর্টসার্কিট হয়ে মৃত্যুবরণ করে বেশিরভাগ এলিয়েন। কয়েকটা এলিয়েন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নরম্যান্ডি উপকূলে ডুবে মরে। হারাকিরি করে এলিয়েনদের বউগুলি। একটা বাচ্চা এলিয়েনকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দত্তক নেয়।
এলিয়েনদের উপসেনাপ্রধান, তাদের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে এসে দাঁতালের হাঁটু চেপে ধরে। কাশতে কাশতে তার মুখ দিয়ে রক্ত ছলকে পড়ে। "প্লিজ! থামো! ... আমি সারেন্ডার করছি! আর না!"
দাঁতালের মনটা ভিজে যায়। চোখে জল আসে তার। তারপর পকেট থেকে দুর্গন্ধী রুমাল বার করে এলিয়েন পালোয়ানের কষ থেকে রক্ত মুছে দেয়। তার কাঁধে হাত রেখে বলে, "ঠিক তোমার মতোই অবস্থা হৈছিলো ফ্যাসিবাদী নোয়ার, যখন তারে জিগাইছিলাম, এই ফ্যাসিবাদী মনোভাব লৈয়া তুমি আমার জরায়ু ব্যবহার করতে পারবা, এই আশা তুমি অবচেতনে লালন করন ঘটন হওয়ায় ক্যাম্নে ...!"
এলিয়েন পালোয়ান কাঁপতে কাঁপতে পড়ে যায়। তারপর মরে যায়।
৬.
দূর থেকে বাইনোকুলার দিয়ে এই দৃশ্য দেখে এক মার্কিন সেনাকর্তা ওয়্যারলেস তুলে বলে, "মিশন অ্যাকমপ্লিশড! এখন কী করবো স্যার?"
ওবামা বলেন, "ক্লোরোফরম করে আজিজ মার্কেটে ছেড়ে দিয়ে আসো বলদাটাকে।"
লেবেলসমূহ:
রম্য গল্প,
হাঁটুপানির জলদস্যু
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
